কোন খাবার কখন খাওয়া উচিত তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করলে অনেকটাই সুস্থ থাকা যায়। কোন খাবার কখন খাওয়া উচিত, তার একটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সকালের খাবার (Breakfast):
- সময়: আমরা অনেকেই ঘুম থেকে অনেক দেরি করে উঠি, এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার পরও সকালের খাবার খাই দেরি করে যেটি মোটেও উচিত না। ঘুম থেকে উঠার ১ ঘণ্টার মধ্যে সকালের খাবার খাওয়া উচিত। সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে।
- গুরুত্ব: দ্রুত ঘুম থেকে উঠা যেমন উপকারি তেমনি সকালের খাবারও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি শরীরের মেটাবলিজম শুরু করে এবং সারাদিনের জন্য শক্তি যোগায়।
- কি খাওয়া উচিত: আমরা অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন ধরনের তৈলাক্ত জিনিস খাই। যেমন পরেটা, ভাজিপুরি ইত্যাদি। এগুলো আমাদের পেটে গিয়ে অতিরিক্ত হজমরস ক্ষয় করে, ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এসব খাবার ত্যাগ করে সকালের খাবারে শস্য (যেমন রুটি, ওটস), প্রোটিন (যেমন ডিম, বাদাম), ফল এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন অ্যাভোকাডো) থাকা উচিত।
- উদাহরণ: রুটি এবং ডিম, ফল এবং বাদাম, ওটস এবং দুধ, মধু, কিসমিস, মেথি, কালোজিরা ইত্যাদি।
২. দুপুরের খাবার (Lunch):
- সময়: দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়া উচিত।
- গুরুত্ব: দুপুরের খাবার শরীরের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- কি খাওয়া উচিত: দুপুরের খাবারে সবজি, প্রোটিন (যেমন মাছ, মাংস, ডিম) এবং শস্য (যেমন ভাত, রুটি) থাকা উচিত।
- উদাহরণ: ভাত, মাছ বা মাংস, এবং সবজি।
৩. রাতের খাবার (Dinner):
- সময়: আমরা অনেকেই জানিনা রাতের খাবার কখন খাওয়া লাগে, অথবা জানলেও মানার চেষ্টা করি না। এজন্য আমাদের অসুখ সারে না, বরং সারাজীবন ঔষধের উপ থাকা লাগে। রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে রাতের খাবার খাওয়া উচিত। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে। অথচ আমরা খাওয়া শেষ হওয়া মাত্রই শুয়ে পড়ি। আবার এমনও কেউ আছেন যারা শুয়ে শুয়ে খাবার খেয়ে থাকেন।
- গুরুত্ব: রাতের খাবার হালকা হওয়া উচিত, যাতে সহজে হজম হয়। কিন্তু আমরা গলা অবদি খাই, ফলে হজমে সমস্যা হয়। অতিরিক্ত খাবার যেহুতো হজম করতে আমাদের পাকস্থলি ব্যার্থ হয় তাই এটি পচে যায়। ফলে নানা ধরনের পেটের সমস্যা হয়, বিশেষ করে গ্যাসের সমস্যা সবথেকে বেশি হয়।
- কি খাওয়া উচিত: রাতের খাবারে সহজে হজম হয় এমন খাবার, যেমন স্যুপ, সবজি এবং রুটি খাওয়া যেতে পারে।
- উদাহরণ: স্যুপ এবং রুটি, সবজি এবং ডিম, মাছ, চিকেন ইত্যাদি।
৪. কিছু খাবার খাওয়ার সঠিক সময়:
- ফল: ফল খাওয়ার সেরা সময় হলো সকাল বা দুপুর। খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো, কারণ এতে পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষিত হয়।
- সবজি: সবজি খাওয়ার সেরা সময় হলো দুপুর বা রাত।
- প্রোটিন: প্রোটিন খাওয়ার সেরা সময় হলো দুপুর বা রাত।
- শস্য: শস্য খাওয়ার সেরা সময় হলো সকাল বা দুপুর।
৫. যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত:
- ফাস্ট ফুড: ফাস্ট ফুড হলো এমন খাবার যা দ্রুত তৈরি ও পরিবেশন করা যায়। ফাস্ট ফুড সাধারণত রেস্তোরাঁ বা ফাস্ট ফুড দোকানে বিক্রি করা হয়। এই খাবার খাওয়ার সুবিধা হলো, এটি খুব তাড়াতাড়ি যেকোন জায়গায় পাওয়া যায় এবং দামেও সস্তা। তবে ফাস্ট ফুড স্বাস্থ্যকর নয়, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, ফ্যাট এবং সোডিয়াম থাকে। এই খাবারের অনেক অপকারিতা রয়েছে। যেমন- অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের ঝুকি বাড়ায়, হৃদরোগের ঝুকি বাড়ায়, হজমের সমস্যা এবং উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি।
- চিনি: চিনি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। চিনি ছাড়া আমাদের মজাদার খাবারগুলো তৈরি সম্ভবই না। কিন্তু আপনি কি জানেন চিনিকে বলা হয় সাদা বিষ?
চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং ওজন বাড়াতে পারে। এছাড়া- চিনি ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের সমস্যা, ডায়াবেটিস ঝুকি, হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা, মানসিক সমস্যা, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকের সমস্যা এবং ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে। - ভাজাপোড়া খাবার: আমারা অনেকেই ভাহাপোড়া খেতে খুব ভালবাসি, কিন্তু এটা জানিনা এই ভাজাপোড়া খাবার আমাদের শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর। ভাজাপোড়া খাবারে অনেক ফ্যাট থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
- বেশি তেলযুক্ত খাবার: ভাজাপোড়া খাবার বলতে সাধারণত ডুবো তেলে ভাজা খাবার বোঝায়। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রাতে বেশি তেলযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত না। এতে হজমে সমস্যা হতে পারে।
- রেড মিট: রেড মিট হজম হতে সময় লাগে। তাই রাতে রেড মিট খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।


