কবরে সেজদা দেওয়া ও মৃত ব্যাক্তির থেকে কিছু চাওয়া হারাম

বর্তমানে আমাদের সমাজে কবর বা মাজার কেন্দ্রিক অনেক ইসলাম বহির্ভূত কাজ হচ্ছে, যা ইসলাম ধর্মের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষদের ভিতর ধর্ম বিদ্বেষি মনোভাব তৈরি হচ্ছে। কবরকে পাকা করা, তাতে বাতি জালানো, ঢোল তবলা নিয়ে নাচানাচি করা, কবরে সেজদা দেওয়া এবং কিছু চাওয়া এসব শিরেকের অন্তর্ভূক্ত। মহান আল্লাহ তা’আলা সব গুনাহ ক্ষমা করবেন কিন্তু শিরেকের গুনাহ ক্ষমা করবেন না। রাসূল (স) তার জীবদ্দশায় কখনই কবরের পরিবর্তে মাজার শব্দ ব্যবহার করেন নি। অথচ আজকাল কবরকে মাজার নাম দিয়ে অনেক ইসলাম বিরুধী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। আজকে আমরা হাদিসের দলীল দিয়ে এই নতুন আবিষ্কৃত বিষয় অর্থাৎ বিদায়াত নিয়ে আলোচনা করবো।

. কবরে সিজদাহ করা এবং কবরকে মসজিদে পরিণত করা হারাম।
( বুখারী: ১৩৩০ )

. হযরত আবূ হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। রাসূল (স) বলেনঃ আল্লাহ ইহুদীদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে সিজদার স্থানে (মসজিদে) পরিণত করেছে।
( আবু দাউদ: ৩২২৭ )

. ইবনু আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স) কবর যিয়ারতকারিণীদের, কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকারীদের এবং কবরে বাতি প্রজ্জলকারীদের উপর অভিসম্পাৎ করেছেন।

( নাসায়ী: ২০৪৭ )

. রাসূল (স) বলেছেন, তোমরা কখনোই কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাতও আদায় করবে না।
( মুসলিম: ২১৪০, নাসায়ী: ২০৪৪ )

. আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ)…. জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূল (স) কবর পাকা করতে, কবরের উপর বসতে এবং কবরের উপর গৃহ/ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।
( মুসলিম: ২১৩৫,  আবু দাউদ: ৩২২৫, নাসায়ী: ২০২৮ )

. রাসূল (স) কবর যিয়ারতকারিণীদের, কবরের উপর ঘর নির্মাণ ও কবরে বাতি প্রজ্জ্বলনকারিদের উপর অভিসম্পাৎ করেছেন।
( নাসায়ী: ২০৪৩ )

. সুলাইমান ইবনু মূসা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স) কবরের উপর কোনকিছু লিখতে নিষেধ করেছেন। ( আবু দাউদ: ৩২২৬ )

. জাবির (রা) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (স) কবর পাকা করতে, তার উপর কিছু লিখতে বা কোন কিছু নির্মাণ করতে এবং তা পদদলিত করতে নিষেধ করেছেন।

( তিরমিজি: ১০৫২ )

. কবরে চুনকাম করা নিষেধ। ( মুসলিম: ২১৩৫, আবু দাউদ: ৩২২৫ নাসায়ী: ২০২৮ )

১০. কবরের মধ্যে ওরস-মেলা এবং কবরকে উৎসবের স্থান বানানো হারাম।  হযরত আবূ হুরাইরাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স) বলেছেন- তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছানো হবে।
( আবু দাউদ:২০৪২ )

১১. উচু কবর দেখলে ভেঙ্গে দেয়া এবং কবর সমতল করা জরুরী।  হযরত আলী (রা) বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাব না, যে কাজে রাসূল (স) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হচ্ছে কোন (প্রাণী/জীবের) প্রতিকৃতি বা ছবি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে সমান করে দিবে।
( মুসলিম: ২১৩৩, নাসায়ী: ২০৩০,  আবু দাউদ: ৩২১৮ )

১২. কবরের পাশে পশু জবাই করা নিষেধ।  হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (স) বলেছেন-  ইসলামে কোনো বলিদান নেই। আব্দুর রাযযাক (রহ) বলেন, জাহিলী যুগে লোকেরা কবরের কাছে গরু ছাগল বলি দিতো।
( আবু দাউদ: ৩২২২ )

১৩. কবর জিয়ারত (একাকী হাত তুলে দোয়া) করার অনুমতি লাভ করা।
( মুসলিম: ২১৪৯, আবু দাউদ: ৩২৩৪, তিরমিজি: ১০৫৪ )

১৪. রাসুল (ﷺ) বলেছেন, মসজিদুল হারাম,মসজিদুল আক্’সা ও মসজিদে নববী ছাড়া অন্য কোন মসজিদে কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবেনা।
( বুখারী: ১১৯৭ )

১৫. মহীলাদের কবর জিয়ারত করা হারাম।  রাসুল (ﷺ) ঘন ঘন কবর জিয়ারত কারীনীদের অভিসম্পাত করেছেন।
( তিরমিজি: ১০৫৬, ইবনে মাজাহ: ১৫৭৪ )

১৬. আবু হাইয়ায আল-আসাদী (রহ) হতে  বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রা) আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাবো না  যে কাজে আমাকে রাসূল (স) পাঠিয়েছিলেন? তা হলো- আমি যেন কোনো উঁচু কবর দেখলে তা সমান করা ব্যতীত এবং কোনো মূর্তি দেখলে চূর্ণ-বিচূর্ণ না করা পর্যন্ত ছেড়ে দেই।
( আবু দাউদ: ৩২১৮ )

১৭. তোমরা দীনের মাঝে নতুন কিছু আবিষ্কার করো না, কেননা প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতের পরিণাম গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা ( আবু দাউদ: ৪৬০৭ )

১৮. যে ব্যক্তি আমাদের দীনের মধ্যে নতুন কোনকিছু তৈরী করবে, যা তার অন্তর্গত নয়, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে। ( বুখারী: ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম: ১৭১৮, সুনানে আবূ দাউদ: ৪৬০৬ )

১৯. যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করলো, যার মধ্যে আমাদের কোন আদেশ নেই, তাহলে তা আমলকারীর উপর প্রত্যাখ্যাত হবে। ( মুসলিম: ১৭১৮ )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *