অল্পতেই কষ্ট পেয়ে যারা হতাশ হয়ে যান তাদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের মহামূল্যবান বাণী

 

যারা অল্প কষ্ট পেয়ে হতাশ হয়ে যান, মহান আল্লাহ তা’আলাকে ভুলে যান। এমনকি আত্নহত্যাও করতে দ্বিধাবোধ করেন না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’আলা এবং রাসূল (স) গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন।

কুরআন

(১) আল্লাহ তা’আলা কষ্টের পর সুখ দিবেন। [সুরা তালাক : ৭]

(২) নিশ্চয় কষ্টের পর রয়েছে স্বস্তি। [সুরা ইনশিরাহ : ৬]

(৩) আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতাগুলো মহান আল্লাহ তা’আলার নিকটেই নিবেদন করছি। [সুরা ইউসুফ : ৮৬]

(৪) জেনে রেখো, মহান আল্লাহ তা’আলার সাহায্য অতি নিকটে। [সুরা বাকারা : ২১৪]

(৫) আল্লাহ তা’আলার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কেউ নিরাশ/হতাশ হয় না।  [সুরা ইউসুফ : ৮৭]

(৬) মহান আল্লাহ তা’আলা কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের চাইতে অধিক বোঝা চাপিয়ে দেন না।

[সুরা বাকারা : ২৮৬]

(৭) তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুদা, জান-মাল এবং ফল-ফলাদি বিনষ্টের মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। [সুরা বাক্বারা : ১৫৫]

(৮) হে ঈমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’আলা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। [সুরা বাকারা : ১৫৩]

(৯) হে আমার রব, আমি তো আপনাকে ডেকে কখনো ব্যর্থ হইনি। [সুরা মারইয়াম : ৪]

(১০) বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

[সুরা আয-যুমার : ৩৯:৫৩]

(১১) তুমি পেরেশান/হতাশ/নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সাথে আছেন

[সুরা আত-তাওবা : ৯:৪০]

(১২) যে মহান আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য ( বিপদ-আপদ থেকে ) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন। [সুরা আত-ত্বলাক্ব : ৬৫:২]

(১৩) যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে। পরিণামে মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের পাপগুলোকে পূন্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

[সুরা আল-ফুরকান : ২৫:৭০]

 

হাদিস

(১) যে ব্যক্তি আল্লাহর তা’আলা উপর বিশ্বাস রেখে প্রচেষ্টা করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে কখনই ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।”

(সাহীহ মুসলিম)

(২) তোমাদের মধ্য হতে কেউ কখনো দুঃখে পতিত হলে, তার দ্বারা কষ্ট ভোগ করার পর আল্লাহ তাকে ভালো কিছু দিতে সক্ষম, এবং সেটি কখনো তাকে হতাশ করতে পারে না।”

(সাহীহ বুখারি)

(৩) যদি কখনো কোনো মুসলমানের উপর কষ্ট আসে, এবং সে যদি ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ তা’আল তার জন্য পুরস্কার প্রদান করেন।

(সাহীহ মুসলিম)

(৪) মহান আল্লাহ তা’আলা কখনোই কোনো বান্দাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলেন না, যা তার পক্ষে সহ্য করার মত নয়।

(সাহীহ বুখারি)

(৫) নিশ্চয়ই দুঃখ ও কষ্টের পরে সুখ এবং শান্তি রয়েছে, যদি তুমি আল্লাহ তা’আলার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখো।

(তিরমিজি)

(৬) নিশ্চয় হতাশার চেয়ে মহান আল্লাহ তা’আলার রহমত অনেক বেশি।

(সাহীহ মুসলিম)

(৭) ধৈর্য হলো শক্তির এক অপরিহার্য অংশ, সুতরাং বিপদে তুমি ধৈর্য ধারণ করো।

(সাহীহ মুসলিম)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *