সৌরজগৎ সম্পর্কে বিষ্ময়কর কিছু তথ্য

সৌরজগৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোন শেষ নেই। বিশেষ করে কিছুদিন পরপর অজানা যে তথ্যগুলো আমাদের সামনে উদঘাটন হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের আগ্রহের মাত্রাগুলো আরো বেড়ে যায়। সৌরজগৎ হল সূর্য ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্য-প্রদক্ষিণকারী তথা পরস্পরের প্রতি অভিকর্ষজ টানে আবদ্ধ মহাজাগতিক বস্তুগুলিকে নিয়ে গড়া একটি ব্যবস্থা। আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে কালপুরুষ বাহুতে এই গ্রহ ব্যবস্থাটি অবস্থিত। সৌরজগতে প্রত্যক্ষভাবে সূর্য-প্রদক্ষিণকারী বস্তুগুলির মধ্যে আটটি গ্রহই বৃহত্তম। অন্য ক্ষুদ্রতর বস্তুগুলির মধ্যে রয়েছে বামন গ্রহ ও সৌরজগতের ক্ষুদ্র বস্তুসমূহ। পরোক্ষভাবে সূর্য-প্রদক্ষিণকারী বস্তুগুলির মধ্যে দু’টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধের থেকেও আকারে বড়ো।

৪৬০ কোটি বছর আগে একটি দৈত্যাকার আন্তঃনাক্ষত্রিক আণবিক মেঘের মহাকর্ষীয় পতনের ফলে সৌরজগতের উদ্ভব ঘটেছিল। সমগ্র সৌরজগতের ভরের অধিকাংশ অংশই রয়েছে সূর্যে এবং অবশিষ্ট ভরের অধিকাংশ ধারণ করে রয়েছে বৃহস্পতি। চারটি ক্ষুদ্রতর অভ্যন্তরীণ গ্রহ, অর্থাৎ বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল হল শিলাময় গ্রহ। এগুলি প্রধানত শিলা ও ধাতু দ্বারা গঠিত। চারটি বহিঃস্থ গ্রহ হল দানব গ্রহ। কারণ, বস্তুগত দিক থেকে এগুলি শিলাময় গ্রহগুলির তুলনায় অনেক কম ঘনত্বযুক্ত হলেও আয়তন অত্যধিক বেশি হওয়ায় অনেক বেশি ভরযুক্ত। এগুলির মধ্যে বৃহত্তম গ্রহ দু’টি হল বৃহস্পতি ও শনি। মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দ্বারা গঠিত বলে এগুলি গ্যাস দানব নামে পরিচিত।

যাই হোক এবার জানা যাক চলতি বছরে আমরা কোন বিরল দৃশ্যের পরিচিত হতে যাচ্ছি।  আমাদের সৌরজগতে গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তন করছে। এই সব আবর্তন জনিত কারণে অনেক মহাজাগতিক ঘটনা পৃথিবী থেকে দেখা যায়। ধূমকেতু, সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ এমনই কিছু ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে দেখা যাবে গ্রহদের প্রায় সরলরৈখিক অবস্থান। তবে কক্ষপথে নয় বরং কক্ষপথে একেক অবস্থান হলেও পৃথিবীর সাপেক্ষে দেখে একই সরলরেখায় আছে এমন দেখা যাবে ।

সচরাচর আমরা ৩ গ্রহের এমন অবস্থা দেখি কিন্তু চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌরজগতের ৭ টি গ্রহ প্রায় সরলরৈখিক অবস্থানে আকাশে দেখা যাবে । বুধ, শুক্র, মঙ্গল বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন আকাশে থাকবে। এই প্ল্যানেট প্যারেডের মাস খানেক আগে ২১ জানুয়ারি ৬ গ্রহের প্ল্যানেট প্যারেড দেখা গিয়েছে। তবে নেপচুন খালি চোখে দেখা যায় না এবং সম্পূর্ণ অন্ধকার না হলে ইউরেনাস দেখা মুশকিল। তাই ২১ জানুয়ারি ৬ গ্রহের পরিবর্তে ৪ গ্রহ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ৭ গ্রহের পরিবর্তে ৫ গ্রহ ভালো দেখা যাবে। টেলিস্কোপ বা শক্তিশালী বাইনোকুলার দিয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে দেখলে ইউরেনাস ও নেপচুন দেখতে পাওয়া যাবে।

তবে যদি কক্ষপথে একই সরলরেখায় আসার কথা বলি তাহলে ২০৪০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ৫ উজ্জ্বল গ্রহ (বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি) এবং চাঁদ পৃথিবীর সাথে কক্ষপথে প্রায় একই সরলরেখায় আসবে । পশ্চিম আকাশে এই ৬ বস্তুকে খুবই কাছাকাছি দেখা যাবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *