বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনও উন্নত না হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক এবং শিক্ষাগত সমস্যা থেকে উদ্ভূত। নিচে প্রধান কিছু কারণ তুলে ধরা হলো:
১. অপর্যাপ্ত অর্থায়ন ও অবকাঠামোর অভাব। স্বাস্থ্যখাতে বাজেটের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, পুরনো সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের অভাব।
২. মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি। চিকিৎসা শিক্ষার মান সর্বত্র সমান নয়। গবেষণার সুযোগ ও পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা।
৩. গবেষণার অভাব। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় বিনিয়োগ কম। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা ল্যাবের অভাব। নতুন ওষুধ আবিষ্কার বা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নে উদ্যোগের অভাব।
৪. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দুর্নীতি। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এবং তহবিল অপব্যবহার। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজারে অনিয়ম। হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দুর্বল ভূমিকা।
৫. জনসংখ্যার চাপ ও অসচেতনতা। বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। জনগণের মধ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সচেতনতার অভাব।
৬. প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব। চিকিৎসকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা।
৭. স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য। গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে বড় ফারাক। গ্রামীণ অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসা সেবার অভাব।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপঃ স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং সঠিক ব্যবহারের নিশ্চয়তা। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ। গবেষণা ও উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা। দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ।
এই সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান একদিন উল্লেখযোগ্য উন্নতির শিখরে পৌছাবে।


